Breaking

Thursday, 2 July 2020

রাজপাট ও রাজা কান্তেশ্বরের সংক্ষিপ্ত কাহিনী |Rajpath,Gosanimari,Coochbehar

রাজপাট ও রাজা কান্তেশ্বরের সংক্ষিপ্ত কাহিনী


Rajpath
জেলা শহর কোচবিহারের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে দিনহাটা মহকুমার অন্তর্গত গোসানীমারি নিকটস্থ বর্তমানের জামবাড়ি গ্রামটিতেই অনেক যুগ আগে জন্মগ্রহণ করেন রাজা কান্তেশ্বর। রাধা কৃষ্ণদাস বৈরাগী বিরচিত বিখ্যাত "গোসানীমঙ্গল" কাব্য গ্রন্থে এমনটাই উল্লেখ। বাল্য কালে রাজা কান্তেশ্বরের নাম ছিল কান্তনাথ। জামবাড়ি এলাকার এক সহজ সরল ভক্তিপ্রাণা কৃষক ভক্তিশ্বর ও তার সুলক্ষণা স্ত্রী অঙ্গনার গর্ভে বালক কান্তনাথ এর জন্ম। স্বামীর মুখে দেবী চন্ডীর মাহাত্ম্য শুনে অঙ্গনা, চন্ডীর দেবীর আরাধনা শুরু করেন, ফলস্বরূপ দেবীর কৃপায় সে পুত্রবতী হয়, ও তার পুত্র পরে সেই রাজ্যের রাজসিংহাসনে আসীন হয়।
কান্তনাথ এর পাঁচবছর বয়সে তার পিতা ভক্তিশ্বর স্বর্গ লোক প্রাপ্ত হওয়ায়, সহায় সম্বল হীন অঙ্গনা বালক কান্তনাথ কে স্থানীয় এক ব্রাহ্মণের বাড়িতে গো পালকের কাজে নিযুক্ত করেন। বয়সে কাচা হওয়ায়, কান্ত নাথের কাজে গাফিলতি আসে এবং প্রায় দিনই সে তার নিজ কাজ ফেলে রেখে নদীর ধারে গাছের ছায়ায় একান্তে বিশ্রামে নিমগ্ন থাকতেন। তার তত্ত্বাবধানে থাকা পোষ্য গুলি তার নাগাল ছেড়ে বেরিয়ে এর ওর ক্ষেতের ফসল নষ্ট করলে, স্থানীয় গ্রামবাসীরা কান্তনাথের এই কর্তব্য গাফিলতি র কথাটি তুলে ধরেন তার মালিক পুরোহিতের কানে। স্বভাবতই, ক্রুদ্ধ ব্রাহ্মণ এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিষয় টি নিজ হাতে তদারকির দায়িত্ব নেন। এরপর একদিন গোপনে কান্তনাথ কে অনুসরণ করে ব্রাহ্মণ যা দেখতে পেলেন, তাতে বেশ অবাকই হলেন সে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন ফণা ধরা সাপের ছায়ায় আচ্ছাদিত হয়ে কান্তনাথ সুখে নিদ্রা গেছেন। তৎক্ষণাৎ বালকের হাতে পায়ে শুভ চক্র চিহ্ন দেখে পুরোহিত ভবিষ্যত বাণী করেন, এই বালক ভবিষ্যতে এ রাজ্যের অধীশ্বর হবেন। এরপর ব্রাহ্মণ কান্তনাথ কে গোপালকের কাজ থেকে অব্যাহতি দেন এবং তাকে দ্বারা প্রতিশ্রুতি আদায় করান এই বলে যে, যদি কান্তনাথ কোনোদিন এ রাজ্যের রাজসিংহাসনে আসীন হয় তাহলে তাকে তার রাজ্যের রাজগুরুর মর্যাদা দিতে হবে
পরবর্তীতে দেবী চন্ডীর আশীর্বাদে কান্তেশ্বরের রাজত্ব প্রাপ্তি ঘটে ও তিনি একপুরুষের রাজত্ব ভোগ করবার বর পান রাজা হিসাবে তিনি ছিলেন সুশাসক ও ধর্মপরায়ণ।
বিশ্বকর্মা র অসাধারণ শিল্প কর্মে এক রাত্রি মধ্যেই সেজে ওঠে তার রাজ্য ও রাজপ্রাসাদ রাজ্য কে সুরক্ষিত রাখতে চারিদিকে সুন্দর সুন্দর গড় নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মা নিজে। সেগুলিতে কারুকার্য যুক্ত বিভিন্ন দুয়ার স্থাপিত হয়, শীলদুয়ার, ধর্ম দুয়ার নামে এখনো যেগুলো বিদ্যমান। চারদিক থেকে মাটি কেটে এনে, এবং বিভিন্ন পাহাড় পর্বত থেকে পাথর সংগ্রহ করে স্তুপাকৃতি ঢিবি র উপর বিশালাকার রাজপাট নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মার কর্মীরা । প্রাসাদ উঁচু হওয়ায় সেখানে হয়ত জলের সমস্যা দেখা দেবে এই ভেবে মা গঙ্গা কে স্মরণ করে সেখানে দেবশিল্পী স্থাপন করেন সুবিশাল কুয়ো(এখনো বিদ্যমান ), এছাড়াও নটির বুরুজ, টাকশাল স্থাপন, বাজার হাট নির্মাণ ও বিভিন্ন মঠ মন্দির নির্মানান্তে বিশ্বকর্মা র সেনারা কর্ম অন্তে কোদালধোঁয়ায় তাঁদের কাজ।

সূত্র - রাধা কৃষ্ণদাস বৈরাগী বিরচিত "গোসানীমঙ্গল " কাব্যগ্রন্থ

No comments:

//